সোমেশ্বরী নদী
ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের সীমসাংগ্রী নামক স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুরে প্রবেশ করেছে সোমেশ্বরী নদী। লোকমুখে প্রচলিত, অনেককাল আগে সোমেশ্বর পাঠক নামে এক ব্যক্তির দ্বারা এ অঞ্চল দখল হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তার নামানুসারেই নদীটি 'সোমেশ্বরী' নদী হিসাবে পরিচিতি পায়। গারোদের কাছে নদীটির আদি নাম ছিলো ‘সমসাঙ্গ’। সদা স্বচ্ছ জলের এই নদীটিকে বর্তমানে একটি প্রাকৃতিক কয়লা খনিও বলা যায়, যেখান থেকে প্রতিদিন স্থানীয় দিনমজুররা কয়লা উত্তোলন করে।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
সোমেশ্বরী নদীর সৌন্দর্য বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একেক রকম হয়। বর্ষাকালে জল পেয়ে নদীটি যেন যৌবন ফিরে পায় এবং চারপাশের প্রকৃতি দারুণ সতেজ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে শীতকালে নদীর পানি কমে গেলেও জলের স্বচ্ছতা এবং শান্ত রূপ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তাই বর্ষা থেকে শুরু করে শীতকাল—যে কোনো সময়ই সোমেশ্বরী নদী ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে দুর্গাপুর যাওয়া যায়। মহাখালী থেকে বাসে দুর্গাপুর (সুখনগরী হয়ে) পৌঁছাতে পারেন। সবচেয়ে আরামদায়ক উপায় হলো হাওর বা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে শ্যামগঞ্জ বা নেত্রকোণা নেমে সেখান থেকে সিএনজি বা বাইকে দুর্গাপুর যাওয়া। আরেকটি বিকল্প হলো জারিয়া লোকাল ট্রেনে জারিয়া স্টেশন হয়ে নদী পার হয়ে দুর্গাপুর পৌঁছানো।
কী করবেন / কী দেখবেন
সোমেশ্বরী নদীতে নৌকা ভ্রমণ ও কয়লা উত্তোলনের দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি সারাদিনের জন্য মোটরসাইকেল বা সিএনজি ভাড়া করে আশেপাশের স্থানগুলো ঘুরতে পারেন। এর মধ্যে বিজয়পুরের চীনা মাটির পাহাড় (সাদামাটি বা গোলাপী পাহাড়) ও নীল পানির হ্রদ, গারো পাহাড়, রানিখং চার্চ এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ের জন্য তৈরি ঐতিহাসিক পিলার উল্লেখযোগ্য। ঘোরাঘুরির ফাঁকে দুর্গাপুর বাজারের বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি চেখে দেখতে ভুলবেন না।
