রামু বৌদ্ধ বিহার
কক্সবাজার জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা হচ্ছে রামু। পুরাকীর্তিসমৃদ্ধ রামুতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অনেক প্রাচীন বৌদ্ধ নিদর্শন, যার মধ্যে সর্বমোট ৩৫টি বৌদ্ধ মন্দির ও জাদি রয়েছে। রামুর উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত গৌতম বুদ্ধের ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা মূর্তি এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এর মাত্র দুই কিলোমিটার দূরেই রয়েছে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় সীমাবিহার। এছাড়া একটু দক্ষিণে এগোলেই নজরকাড়া লালচিং ও সাদাচিং বৌদ্ধ বিহার চোখে পড়বে, যা ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
রামু ভ্রমণের জন্য শীতকাল বা অক্টোবর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে, ফলে পায়ে হেঁটে অনেকগুলো মন্দির ও বিহার ঘুরে দেখতে ক্লান্তি আসে না। যেহেতু এটি কক্সবাজারের খুব কাছাকাছি, তাই কক্সবাজার ভ্রমণের আনন্দদায়ক আবহাওয়ার সাথেই রামুর প্ল্যান করা সবচেয়ে ভালো।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার এক্সপ্রেস বা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন, এসি/নন-এসি বাস অথবা ফ্লাইটে করে প্রথমে কক্সবাজার পৌঁছাতে হবে। কক্সবাজার শহর থেকে রামু বেশ কাছে। শহর থেকে জনপ্রতি ৪০ টাকা ভাড়ায় বা ৪০০-৫০০ টাকায় সিএনজি, অটোরিকশা বা ট্যাক্সি রিজার্ভ করে রামু যাওয়া যায়। সময় বাঁচাতে এবং একাধিক বিহার একসাথে ঘুরতে একটি গাড়ি ৪-৫ ঘণ্টার জন্য রিজার্ভ করে নেওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।
কী করবেন / কী দেখবেন
রামুতে দেখার মতো উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্যবাহী মন্দির ও বিহারগুলোর মধ্যে রয়েছে— উত্তর মিঠাছড়ির ১০০ ফুট বৌদ্ধ মূর্তি, রামু সীমা বিহার, লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহার, রাংকূট বৌদ্ধ বিহার, শ্রী শ্রী রামকুট তীর্থ ধাম এবং শ্রীকুল পুরাতন বৌদ্ধ বিহার। হাতে সময় থাকলে এখানকার বিস্তীর্ণ রামু রাবার বাগান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। রামু ঘোরা শেষে রাত্রিযাপন এবং দারুণ সব সামুদ্রিক খাবার উপভোগের জন্য কক্সবাজার শহরে ফিরে আসাই সবচেয়ে ভালো।
