পাঁচগাঁও
নেত্রকোণা জেলার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে অবস্থিত পাঁচগাঁও গ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি পাহাড়ি এলাকা। এখানকার চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড় স্থানীয়দের কাছে 'পাঁচগাঁও টিলা' বা 'কলমাকান্দার পাহাড়' নামেও পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, শত শত বছর আগে চাঁদ সওদাগরের নৌকা এখানে ডুবে গিয়েছিল। পাহাড়টির আকৃতি নৌকার মতো হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে চন্দ্রডিঙ্গা বা চন্দ্রডিঙ্গি। পাঁচগাঁও ভ্রমণে গেলে চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়ের পাশাপাশি ছোট ছোট ঝর্ণা, ঝিরিপথ এবং বিস্তীর্ণ সবুজ সমতল ভুমি দেখতে পাওয়া যায়, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
পাঁচগাঁও ভ্রমণের জন্য বর্ষা ও শীতকাল উভয়ই উপযুক্ত। বর্ষার সময় বা বর্ষার ঠিক পরে (জুলাই-অক্টোবর) এখানকার ছোট-বড় ঝর্ণা ও ঝিরিপথগুলো পানিতে পূর্ণ থাকে এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আরও সতেজ রূপ ধারণ করে। অন্যদিকে, শীতকালে ট্রেকিং করা বেশ আরামদায়ক। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানে দিনে গিয়ে দিনেই ঘুরে আসা সবচেয়ে ভালো।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
ঢাকার মহাখালী থেকে সরাসরি বাসে কলমাকান্দা যাওয়া যায়, যা ভোরবেলায় পৌঁছায়। সেখান থেকে বাইক বা সিএনজি নিয়ে পাঁচগাঁও যাওয়া যায়। বিকল্প হিসেবে ঢাকা বা ময়মনসিংহ থেকে বাস বা ট্রেনে নেত্রকোণা সদর হয়েও আসা যায়। নেত্রকোণা সদর থেকে সিএনজিতে করে কলমাকান্দা এবং শেষে বাইকে করে সরাসরি পাঁচগাঁও টিলায় পৌঁছানো সম্ভব।
কী করবেন / কী দেখবেন
পাঁচগাঁও গ্রামে প্রবেশের পথেই বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি বিশাল বটগাছ দেখতে পাবেন। এখানকার মূল আকর্ষণ হলো নৌকার আকৃতির চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়ে আরোহণ এবং সেখানকার ছোট-বড় ঝর্ণা ও ঝিরিপথের সৌন্দর্য উপভোগ করা। এর কাছাকাছি রয়েছে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্যঘেরা লেংগুরা টিলা এবং ঐতিহাসিক সাত শহীদের মাজার। রাতে থাকার প্রয়োজন হলে নেত্রকোণা শহরে ফিরে আসতে পারেন এবং সেখানকার বিখ্যাত 'বালিশ মিষ্টি' চেখে দেখতে পারেন। পাহাড়ি এলাকায় খাবারের দোকান সীমিত থাকায় সাথে শুকনা খাবার ও পানি রাখা ভালো।
