নেত্রকোণা
নেত্রকোণা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত এক বৈচিত্র্যময় জনপদ। কংস, সোমেশ্বরী এবং মহেশ্বরী নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই জেলা প্রাচীন ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। একসময় এই অঞ্চল কামরূপ রাজ্যের অধীনে ছিল এবং পরে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ঈশা খাঁ এবং খাজা উসমান খাঁর মতো শাসকদের স্মৃতি বিজড়িত এই জেলায় ঐতিহাসিক পাগলপন্থী ও টংক আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। এখানকার গারো পাহাড়ের পাদদেশ, নীল জলের হ্রদ, উপজাতীয় সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক সুফি সাধক শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমীর (রহ.) মাজার পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
নেত্রকোণা এবং দুর্গাপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য শীতকাল বা নভেম্বর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় সোমেশ্বরী নদীর স্নিগ্ধ রূপ এবং সাদামাটির পাহাড়ের আশপাশের আবহাওয়া ঘোরাঘুরির জন্য বেশ আরামদায়ক থাকে। তবে বর্ষাকালে নদী ও হাওরগুলো জলে পূর্ণ হয়ে অন্যরকম এক সতেজ ও প্রাণবন্ত রূপ ধারণ করে, যা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে খুব প্রিয়।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
ঢাকা থেকে নেত্রকোণা সড়ক ও রেলপথে খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি বাসযোগে নেত্রকোণা শহরে পৌঁছাতে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে। এছাড়া ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে হাওর এক্সপ্রেস বা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে করে অত্যন্ত আরামদায়কভাবে নেত্রকোণা যাওয়া যায়। দুর্গাপুর, বিরিশিরি বা কলমাকান্দা যেতে চাইলে ময়মনসিংহ হয়ে শ্যামগঞ্জ বা নেত্রকোণা সদর থেকে লোকাল বাস, সিএনজি বা মোটরসাইকেল ভাড়া করে যেতে হয়।
কী করবেন / কী দেখবেন
নেত্রকোণায় দেখার মতো অসংখ্য প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। দুর্গাপুরের বিজয়পুরে সাদামাটির পাহাড় ও নীল জলের হ্রদ, সোমেশ্বরী নদী, পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত রাণীখং মিশন এবং ঐতিহাসিক কমলা রাণী দিঘি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। টংক শহীদ স্মৃতিসৌধ এবং বিরিশিরি কালচারাল একাডেমিতে গিয়ে গারো ও হাজং উপজাতীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারেন। ইতিহাসপ্রেমীরা ঘুরে আসতে পারেন কেন্দুয়ার রোয়াইলবাড়ি দুর্গ, যেখানে সুলতানি আমলের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এছাড়াও মদনপুরে হাজার বছরের প্রাচীন হজরত শাহ্ সুলতান কমর উদ্দীন রুমী (রহ.)-এর মাজার দর্শন পর্যটকদের মনে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এনে দেয়।
