Mymensingh

Mymensingh

(ময়মনসিংহ)

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত ময়মনসিংহ, এর সমৃদ্ধ ইতিহাস, লোকজ সংস্কৃতি এবং মননশীল পরিবেশের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থান।

Mymensingh,BangladeshBest time: November to MarchIdeal for: Heritage tours, riverbanks, cultural exploration, and local sweets

Explore the places

ময়মনসিংহ

ব্রহ্মপুত্র নদের স্নিগ্ধ তীরে গড়ে ওঠা ময়মনসিংহ তার সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি, প্রাচীন জমিদার বাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিখ্যাত। 'মৈমনসিংহ গীতিকা'-এর এই উৎপত্তিস্থল বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য একটি তীর্থস্থান। মহুয়া, মলুয়া ও চন্দ্রাবতীর মতো অমর চরিত্রগুলোর পদচারণায় মুখর ছিল এই প্রাচীন জনপদ। একসময় এই অঞ্চলটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ নামে পরিচিত ছিল, যার ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব আজও দৃশ্যমান। শহরের শান্ত পরিবেশ, শতাব্দী প্রাচীন স্থাপত্য, সবুজ প্রকৃতি এবং নদীর পাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য পর্যটকদের এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও ময়মনসিংহ আজও তার নিজস্ব গ্রামীণ সারল্য, লোকজ ঐতিহ্য ও আন্তরিক আতিথেয়তা ধরে রেখেছে।

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

ময়মনসিংহ ভ্রমণের জন্য শীতকাল বা নভেম্বর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে, যা রোদ পোহানো এবং শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আদর্শ। শীতের সকালে ব্রহ্মপুত্রের বুকে ভেসে থাকা কুয়াশা আর স্থানীয় খেজুরের রস ও পিঠার স্বাদ আপনার ভ্রমণকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। তবে বর্ষাকালে ব্রহ্মপুত্র নদ যখন কানায় কানায় পূর্ণ থাকে, তখন এর ভিন্ন এক যৌবন উপভোগ করা যায়। তাই যারা নদীর রূপ দেখতে ভালোবাসেন এবং নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর রোমাঞ্চ খুঁজছেন, তারা বর্ষার শেষের দিকে বা শরতেও ভ্রমণ করতে পারেন। শরতে নদীর চরে ফোটা শ্বেতশুভ্র কাশফুল চারপাশকে এক মায়াবী রূপ দান করে।

গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ সড়ক ও রেলপথে খুব সহজেই এবং দ্রুততম সময়ে পৌঁছানো যায়। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত এসি ও নন-এসি বাস (যেমন: এনা ট্রান্সপোর্ট, সৌখিন ইত্যাদি) ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, যাতে যানজট না থাকলে সময় লাগে মাত্র ২.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা। এছাড়া ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে করেও অত্যন্ত আরামদায়কভাবে ময়মনসিংহ পৌঁছানো সম্ভব। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা বা অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের মতো আন্তঃনগর ট্রেনগুলো এই রুটে নিয়মিত চলাচল করে। শহরে পৌঁছানোর পর দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাতায়াতের জন্য রিকশা এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক বা অটো বেশ সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী।

কী করবেন / কী দেখবেন

ময়মনসিংহে ঘুরে দেখার মতো অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক জায়গা রয়েছে। এটি মূলত জমিদারদের স্মৃতিবিজড়িত শহর, যেখানে ছড়িয়ে আছে মহারাজা শশীকান্ত আচার্য্য চৌধুরির বাসভবন শশী লজ, আলেকজান্ডার ক্যাসেল (লোহার কুটি), গৌরিপুর লজ, ধনবাড়ি জমিদারদের হাসান মঞ্জিল, আঠারোবাড়ি বিল্ডিং, মসুয়ার জমিদার বাড়ি, সুসং দুর্গাপুরের রাজার বাড়ি, রামগোপাল জমিদার বাড়িসহ আরও অনেক ঐতিহ্যবাহী বাসভবন। ধর্মীয় ও প্রাচীন স্থাপত্যের মধ্যে ১৮৫০ সালে স্থাপিত বড় মসজিদ, মাথাভাঙ্গা মঠ, চর খরিচার মদিনা মসজিদ, বড় কালীবাড়ি এবং দূর্গাবাড়ি মন্দির (১৮৬৭) উল্লেখযোগ্য। ইতিহাস ও জাদুঘরপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ময়মনসিংহ জাদুঘর, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (BAU) ভেতরের মৎস্য ও কৃষি জাদুঘর। প্রকৃতির টানে ঘুরতে পারেন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে, বিজিবি পার্ক, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু কিংবা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল গার্ডেন, জার্মপ্লাজম সেন্টার ও কেওয়াটখালী দ্বিতল রেললাইন এলাকায়। এছাড়া শহরের আনন্দ মোহন কলেজ (১৯০৮), এস কে হাসপাতাল, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার (১৭৯২) এবং স্বাধীনতা স্তম্ভ পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শহর থেকে একটু দূরে মুক্তাগাছার জমিদার বাড়ি দর্শন ও সেখানকার বিখ্যাত মণ্ডা চেখে দেখাও পর্যটকদের জন্য অবশ্য করণীয়।

Highlights

পর্যটকদের আকর্ষণের কারণ

  • ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সূর্যাস্ত
  • মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি ও শতাব্দী প্রাচীন বিখ্যাত মণ্ডার স্বাদ
  • শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ও ঐতিহাসিক শশী লজ
  • সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি, মৈমনসিংহ গীতিকা এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের ছোঁয়া