মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি
ময়মনসিংহ শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি (যা আট-আনী জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত) প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। নবাবের আস্থাভাজন শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর চার ছেলে (রামরাম, হরেরাম, বিষ্ণুরাম ও শিবরাম) ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন। মুক্তাগাছার জমিদারি মোট ১৬টি অংশে বিভক্ত ছিল এবং এই রাজবাড়িটি হরেরামের বংশধরদের দ্বারা পরিচালিত হতো। জমিদার জগৎকিশোর আচার্য চৌধুরী এবং তাঁর পুত্রদের আমলে এই রাজবাড়িটি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। একসময় প্রায় ১০০ একর জায়গার ওপর বিস্তৃত এই রাজবাড়ির কারুকার্যময় প্রবেশদ্বার ও রাজকীয় নকশা আজও পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি ভ্রমণের জন্য শীতকাল বা নভেম্বর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে, ফলে বিশাল এই রাজবাড়ি এবং এর চারপাশ পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখার জন্য খুব আরামদায়ক হয়। শীতের মিষ্টি রোদে প্রাচীন এই স্থাপত্যের সৌন্দর্য আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। তবে ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বছরের যেকোনো সময়ই এই স্থানটি ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে ময়মনসিংহ শহরে পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে ময়মনসিংহ যাওয়া খুবই সহজ। এরপর ময়মনসিংহ শহর থেকে মুক্তাগাছার দূরত্ব মাত্র ১৬ কিলোমিটার। ময়মনসিংহ শহরের টাঙ্গাইল বাস স্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাস, সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটে সরাসরি মুক্তাগাছা পৌঁছানো যায়। রাজবাড়িটি ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল ও জামালপুর মহাসড়কের সংযোগস্থল থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বদিকে অবস্থিত।
কী করবেন / কী দেখবেন
রাজবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখতে পাবেন বিশাল ফটক, রাজদরবার, হাওয়া ভবন এবং দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটার কাজ। এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো 'ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠ' নামক ঘূর্ণায়মান নাট্যমঞ্চ, যা জমিদার কুমার ভূপেন্দ্র কিশোরের তৈরি এবং কলকাতার বাইরে এশিয়ায় এই ধরনের প্রথম মঞ্চ। এছাড়া রয়েছে লোহার তৈরি সিন্ধুক ও শিল্পীদের বিশ্রামাগার। উদয় শঙ্কর, কাননবালা থেকে শুরু করে অনেক বিখ্যাত শিল্পী এই মঞ্চে পারফর্ম করেছেন। রাজবাড়িটি ভালোভাবে ঘুরে দেখার পর ঠিক এর বাইরেই অবস্থিত বিখ্যাত রামদত্তের আদি দোকানে গিয়ে প্রায় দুই শতক পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মণ্ডার স্বাদ নিতে একেবারেই ভুলবেন না।
