মমিন মসজিদ
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামে অবস্থিত মমিন মসজিদটি এক অনন্য কাঠের শিল্পকর্ম। ১৯১৩ সালে মৌলভী মমিন উদ্দিন আকন ২১ জন কারিগরের সহায়তায় সম্পূর্ণ লোহাকাঠ ও বার্মা সেগুন দিয়ে এই মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন, যা শেষ হয় ১৯২০ সালে। বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন মসজিদগুলোর তালিকায় এটি ২৩তম অবস্থানে রয়েছে। এই মসজিদের দেয়াল, প্রবেশদ্বার ও মেহরাবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম জ্যামিতিক নকশা এবং আরবি ক্যালিগ্রাফি খোদাই করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এর আদি কাঠামো নির্মাণে কোনো লোহা বা তারকাটা ব্যবহার করা হয়নি। এটি বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
মসজিদটি সারা বছরই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তবে দিনের আলোয় এর কাঠের কারুকাজ এবং সূক্ষ্ম ক্যালিগ্রাফিগুলো সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উপভোগ করা যায়।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
ঢাকা থেকে বাস বা লঞ্চে পিরোজপুর হয়ে মঠবাড়িয়া পৌঁছানো যায়। মঠবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে তেলিখালী রোড হয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মসজিদে যাওয়া যায়। এছাড়া বরিশাল থেকে মঠবাড়িয়াগামী বাসে তুষখালী নেমে সেখান থেকেও সহজে এখানে আসা সম্ভব।
কী করবেন / কী দেখবেন
মসজিদের সূক্ষ্ম কাঠের কারুকাজ ও ক্যালিগ্রাফি পর্যবেক্ষণ, লোহা ছাড়া আদি নির্মাণশৈলী বোঝা, নামাজ আদায় করা এবং সংলগ্ন গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করা।
