Moheshkhali

Moheshkhali

(মহেশখালী)

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দির, ম্যানগ্রোভ বন, মিষ্টি পান এবং আধুনিক মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দরের জন্য বিখ্যাত।

Moheshkhali,Cox's Bazar,BangladeshBest time: October to MarchIdeal for: Island exploration, heritage temples, mangrove forests, and sea ports

Explore the places

মহেশখালী

মহেশখালী কক্সবাজার জেলার একটি দ্বীপ উপজেলা, যা কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জনশ্রুতি আছে, ১৫৫৯ সালের প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দ্বীপের সৃষ্টি হয়। বৌদ্ধ সেন মহেশ্বর-এর নামানুসারে প্রায় ২০০ বছর আগে এই জায়গার নামকরণ হয় মহেশখালী। এটি বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পান, মাছ, শুঁটকি, চিংড়ি, লবণ এবং মুক্তা উৎপাদনের জন্য সমগ্র বাংলাদেশে এর বিশেষ সুনাম রয়েছে। বর্তমানে এটি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর ও কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুবাদে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ‘এনার্জি হাব’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে।

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

মহেশখালী ভ্রমণের জন্য শীতকাল বা অক্টোবর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় সাগর শান্ত থাকে, ফলে স্পিডবোট বা ট্রলারে যাতায়াত করা বেশ নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়। এছাড়া প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে মৈনাক পর্বতে সপ্তাহব্যাপী ঐতিহাসিক 'আদিনাথ মেলা' অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশি-বিদেশি অসংখ্য পর্যটককে আকর্ষণ করে।

গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়

মহেশখালী সাধারণত নৌপথে এবং সড়কপথে—দুইভাবেই যাওয়া যায়। কক্সবাজার শহরের ৬ নং ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ট্রলারে করে সহজে মহেশখালী পৌঁছানো যায়। স্পিডবোটে সময় কম লাগে এবং জনপ্রতি ভাড়া ৭০-৯০ টাকা। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে চকরিয়া ও বদরখালী হয়েও মহেশখালী আসা যায়, যাতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। দ্বীপে পৌঁছানোর পর রিকশা বা ইজিবাইক ভাড়া করে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

কী করবেন / কী দেখবেন

মহেশখালীতে কক্সবাজার থেকে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা সময় নিয়েই প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে আসা সম্ভব। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৮৮ ফুট উঁচুতে মৈনাক পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দির এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া ম্যানগ্রোভ বনের ওপর দিয়ে নির্মিত শুটিং ব্রিজ, রাখাইন পাড়া, স্বর্ণ মন্দির এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর পর্যটকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে। ফেরার পথে মহেশখালীর বিখ্যাত মিষ্টি পানের স্বাদ নিতে এবং ভালো মানের সাশ্রয়ী শুঁটকি কিনতে ভুলবেন না।

Highlights

পর্যটকদের আকর্ষণের কারণ

  • মৈনাক পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দির ও ফাল্গুনের মেলা
  • ম্যানগ্রোভ বনের ওপর দিয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন শুটিং ব্রিজ বা জেটি
  • মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বাংলাদেশের বৃহত্তম এনার্জি হাব
  • দ্বীপের বিখ্যাত মিষ্টি পান, লবণের মাঠ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের শুঁটকি