মধুটিলা ইকোপার্ক
শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁওয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারিভাবে মধুটিলা ইকোপার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে শোভাবর্ধনকারী ও বিরল প্রজাতির বৃক্ষের বনায়নের পাশাপাশি বিশ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে ঔষধি বৃক্ষের বিশাল বাগান। সবুজের সমারোহ আর পাহাড়ের হাতছানিতে ঘেরা এই পার্কটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ এবং পারিবারিক পিকনিকের জন্য এক আদর্শ স্থান। পার্কের ভেতরে দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য বসার স্থান এবং ক্যান্টিন সুবিধাও রয়েছে।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই পার্কে বছরের যেকোনো সময়ই যাওয়া যায়। তবে শীতকাল বা নভেম্বর থেকে মার্চ মাস মধুটিলা ইকোপার্ক ভ্রমণের এবং পিকনিক করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে, ফলে পুরো পার্ক পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখা এবং বিভিন্ন রাইড উপভোগ করা আরামদায়ক হয়।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
ঢাকা থেকে নিজস্ব গাড়ি বা মাইক্রোবাসে সরাসরি মধুটিলা ইকোপার্কে যাওয়া যায়। বাসে যেতে চাইলে ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে শেরপুরগামী বাসে (যেমন: ড্রিমল্যান্ড স্পেশাল) উঠে শেরপুর পৌঁছাতে হবে। শেরপুর শহরের খোয়ারপাড় শাপলা চত্বর থেকে অটোরিকশা বা সিএনজি রিজার্ভ করে সরাসরি পার্কে যাওয়া যায়। এছাড়া লোকাল সিএনজিতে নন্নী বাজার হয়ে সেখান থেকেও পার্কে যাতায়াত করা বেশ সহজ।
কী করবেন / কী দেখবেন
পার্কের ভেতরের লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে প্যাডেল বোট ও দেশীয় নৌকা। চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার (ওয়াচ টাওয়ার) রয়েছে। এছাড়া পার্কের ভেতরে স্টার ব্রিজ, মিনি চিড়িয়াখানা, বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ভাস্কর্য এবং ছোটদের জন্য আকর্ষণীয় রাইড রয়েছে। দিনের বেলা বিশ্রামের জন্য ডিসি অফিসের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে 'মহুয়া রেস্টহাউস' ব্যবহার করা যায়। হাতে সময় থাকলে খুব কাছেই অবস্থিত 'গজনী অবকাশ কেন্দ্র' থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।
