লাউচাপড়া পিকনিক স্পট
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষা জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্র বা পিকনিক স্পট প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। পাহাড়, অরণ্য, লেক এবং স্থানীয় গারো ও অন্যান্য আদিবাসীদের স্বতন্ত্র জীবনধারা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য ১৯৯৬ সালে জামালপুর জেলা পরিষদ গারো পাহাড়ের ২৬ একর জায়গা জুড়ে এই 'নিকা' পিকনিক স্পটটি নির্মাণ করে। সবুজে ঘেরা এই পরিবেশ যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
লাউচাপড়া পিকনিক স্পট ভ্রমণের জন্য শীতকাল বা নভেম্বর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত। এই সময়ে পিকনিক করা এবং পাহাড়ে ঘোরাঘুরির জন্য আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকে। তাছাড়া শীতকালে চারপাশের সবুজ পাহাড়ের রূপ আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
স্পটটি জামালপুর জেলায় অবস্থিত হলেও, ঢাকা থেকে শেরপুর হয়ে যাতায়াত করা সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বাসে (যেমন: ড্রিমল্যান্ড পরিবহন) চড়ে প্রথমে শেরপুর আসতে হবে। এরপর শেরপুর থেকে লোকাল বাসে করে বকশীগঞ্জ যেতে হয়। বকশীগঞ্জ পৌঁছানোর পর রিকশা, ভ্যান বা অটোরিকশায় করে খুব সহজেই লাউচাপড়া পিকনিক স্পটে পৌঁছানো যায়।
কী করবেন / কী দেখবেন
লাউচাপড়ার প্রধান আকর্ষণ হলো এর প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর নির্মিত আরও ৬০ ফুট উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার। এই টাওয়ারের চূড়ায় উঠে সারি সারি সবুজ পাহাড়, মেঘের লুকোচুরি খেলা এবং সীমান্তের অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া পিকনিক স্পটের ভেতরে শিশুদের বিনোদনের জন্য দোলনা, স্লিপারসহ বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। পূর্ব অনুমতি সাপেক্ষে জেলা পরিষদের 'পাহাড়িকা বাংলো' বা রেস্টহাউসে সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে।
