কুতুবদিয়া দ্বীপ
কুতুবদিয়া কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত ২১৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একটি বৈচিত্র্যময় দ্বীপ উপজেলা। চতুর্দশ শতাব্দীর শেষের দিকে সাগরের বুকে জেগে ওঠা এই দ্বীপে পঞ্চদশ শতাব্দীতে মানুষের পদচারণা শুরু হয়। 'কুতুবুদ্দীন' নামক এক পরহেজগার ব্যক্তির নামানুসারে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়। বর্তমানে এই দ্বীপে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঐতিহাসিক বাতিঘর, কুতুব আউলিয়ার মাজার, লবণ চাষের মাঠ এবং বিস্তীর্ণ এক নির্জন সমুদ্র সৈকত। কোলাহলমুক্ত পরিবেশ এবং ক্যাম্পিংয়ের জন্য এই দ্বীপ পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
শীতকাল বা অক্টোবর থেকে মার্চ মাস কুতুবদিয়া ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। এ সময় সাগর তুলনামূলক শান্ত থাকে বিধায় চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নিরাপদ ও সহজ হয়। পাশাপাশি, শীতকালে দ্বীপে প্রাকৃতিকভাবে লবণ চাষের দৃশ্যও সরাসরি দেখা যায়। বর্ষা বা গ্রীষ্মে সাগর বেশ উত্তাল থাকে।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
ঢাকা বা অন্যান্য স্থান থেকে বাসে প্রথমে কক্সবাজারের চকরিয়া বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিতে করে (জনপ্রতি ৮০-১২০ টাকা) মগনামা ঘাটে পৌঁছাতে হবে। মগনামা ঘাট থেকে ডেনিশ বোট (ইঞ্জিন নৌকা) বা স্পিডবোটে করে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দ্বীপে পৌঁছানো যায়। ডেনিশ বোটে সময় লাগে ৩০-৪০ মিনিট, আর স্পিডবোটে মাত্র ১০ মিনিটেই দ্বীপে পৌঁছানো সম্ভব।
কী করবেন / কী দেখবেন
দ্বীপে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। সৈকতের দক্ষিণে অবস্থিত বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সমুদ্রগামী জাহাজকে পথ দেখাতে নির্মিত বাতিঘর বা লাইটহাউস এখানকার প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া নির্জন সৈকতে ঘুরে বেড়ানো হাজারো গাংচিল, সূর্যাস্তের দৃশ্য, কুতুব আউলিয়ার দরবার শরীফ এবং শীতকালে লবণের মাঠ ঘুরে দেখতে পারেন। দ্বীপে রাত কাটানোর জন্য বড়ঘোপ বাজারে 'হোটেল সমুদ্র বিলাস' রয়েছে, তবে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা সৈকতের কাছে তাঁবু টানিয়ে ক্যাম্পিং করতে বেশি পছন্দ করেন।
