বিরিশিরি
বিরিশিরি নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর পৌরসভার অন্তর্গত একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা। শুরুতে এটি একটি গ্রাম ও ইউনিয়ন থাকলেও বর্তমানে এটি পৌরসভার একটি ওয়ার্ড। গারো পাহাড়ের পাদদেশে এবং সোমেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত এই অঞ্চলে গারো আদিবাসী (৬০%), মুসলিম (৩০%) ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে। শত বছরের পুরনো স্কুল, সরকারি কালচারাল একাডেমি, দুর্গাপুর রাজবাড়ী, মঠগড় এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে এটি সারাদেশের পর্যটকদের কাছে একটি অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় গন্তব্য। অনেকেই বিরিশিরিকে দুর্গাপুর শহর থেকে আলাদা মনে করলেও, মূলত সোমেশ্বরী নদীই এই দুই এলাকাকে বিভক্ত করেছে।
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
বিরিশিরি ভ্রমণের জন্য শীতকাল বা নভেম্বর থেকে মার্চ মাস সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় সোমেশ্বরী নদীর শান্ত রূপ এবং চারপাশের স্নিগ্ধ পরিবেশ মনকে প্রশান্তি দেয়। তবে বর্ষাকালে নদী ও চারপাশের প্রকৃতি এক অন্যরকম সতেজ ও প্রাণবন্ত রূপ ধারণ করে, যা অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দারুণ আকর্ষণীয়।
গন্তব্যে পৌঁছানোর উপায়
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে নেত্রকোণা সদর অথবা শ্যামগঞ্জ হয়ে দুর্গাপুর পৌঁছানো যায়। বিরিশিরিতে বাসস্ট্যান্ড থাকায় সরাসরি বাসে যাতায়াত বেশ সহজ। দুর্গাপুর শহর ও বিরিশিরির মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে সোমেশ্বরী নদী। বিজয়পুর বা রাণীখং-এর মতো জায়গায় যেতে হলে নৌকা বা ট্রলারে করে এই নদী পার হতে হয়।
কী করবেন / কী দেখবেন
বিরিশিরিতে দেখার মতো অনেক চমৎকার জায়গা রয়েছে। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো 'কালচারাল একাডেমি', যেখানে গারো ও অন্যান্য উপজাতীয় সংস্কৃতি চর্চা ও প্রদর্শিত হয়। এর পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক 'কমলা রাণীর দিঘী' বা সাগর দিঘির অবশিষ্টাংশ। মেঘালয় থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীর বালুচরে হাঁটা এবং স্থানীয়দের নদী থেকে কয়লা তোলার দৃশ্য উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এছাড়া বিজয়পুর যাওয়ার পথে নান্দনিক কারুকার্যমণ্ডিত কুল্লাগড়া মন্দির দর্শন এবং দুর্গাপুর রাজবাড়ী ও পুরাকীর্তি নিদর্শন মঠগড় ঘুরে দেখতে পারেন।
